৯ সেকেন্ডে গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো ভারতের ‘সুপারটেক টুইন টাওয়ার’

Bangla Radio 9 views
ভারতের উত্তর প্রদেশ রাজ্যের নয়ডায় বিধিবহির্ভূতভাবে নির্মিত ‘সুপারটেক টুইন টাওয়ার’ মাত্র ৯ সেকেন্ডে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। আজ (রোববার) স্থানীয় সময় দুপুর আড়াইটার দিকে বিশাল বিস্ফোরণের মাধ্যমে ধুলার মেঘ তুলে মুহূর্তের মধ্যে ভেঙে পড়ে ভবন দুটি।

গ্রেটার নয়ডা এক্সপ্রেসওয়ের ধারে জোড়া এই বহুতল ভবনের বিভিন্ন টাওয়ারে ভর্তি করা হয়েছিল ৩ হাজার ৭০০ কেজি বিস্ফোরক। তা দিয়েই উড়িয়ে দেওয়া হয় অ্যাপেক্স এবং সিয়েন- সুপারটেকের দুই ভবন।

জোড়া বহুতল ভবন ভাঙার মুহূর্তের ভিডিওতে মাত্র ৯ সেকেন্ডের মধ্যেই অ্যাপেক্সের ৩২ তলার সঙ্গে মাটিতে মিশে যেতে দেখা যায় সিয়েনের ২৯ তলা ভবন। এই দুই ভবনে মোট এক হাজার ফ্ল্যাট ছিল। রোববার সকালের দিকে ওই এলাকার ৭ হাজার বাসিন্দাকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়। বহুল আলোচিত এই টাওয়ার ভবন ধ্বংসের আগে আশপাশে সব ভবনের গ্যাস এবং বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়।

২০০৪ সালে নয়ডায় সুপারটেক এমারেল্ড কোর্ট নামে একটি হাউজিং সোসাইটি তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ জন্য নয়ডা অথোরিটি সেক্টর ৯৩-এর চার নম্বর প্লটে ৪৮ হাজার ২৬৩ বর্গ মিটার জায়গা বরাদ্দ করে। ২০০৫ সালে নয়ডা অথোরিটি এমারেল্ড কোর্ট নামে এই হাউজিং সোসাইটিতে ১৪টি টাওয়ার বা বহুতল ভবন নির্মাণের অনুমোদন দেয়। অনুমোদন অনুযায়ী, ভবনগুলো ১০ তলা হওয়ার কথা ছিল। সেই হিসাবে ১৪টি টাওয়ার নির্মাণের কাজ শুরু হয়।

পরে ২০০৬ সালের জুন মাসে সুপারটেককে লিজ দেওয়া জমির পরিমাণ বাড়িয়ে ৫৪ হাজার ৮১৯.৫১ বর্গমিটার করা হয়। ওই বছরের ডিসেম্বরে ভবনগুলো ১০ তলার পরিবর্তে ১২ তলা করার অনুমতি দেয় নয়ডা কর্তৃপক্ষ। এছাড়াও ওই আবাসন প্রকল্পে অতিরিক্ত দুটি টাওয়ার এবং একটি শপিং মল নির্মাণের অনুমতি দেওয়া হয়।

গত বছরের আগস্টে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট দুটি ভবনের মধ্যে ন্যূনতম জায়গা ছাড় না রাখার অভিযোগে টুইন টাওয়ার ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেয়। আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, উত্তর প্রদেশ আবাসন আইন অনুসারে ফ্ল্যাট মালিকদের সম্মতি ছাড়াই বেআইনিভাবে ভবন দুটি নির্মাণ করা হয়েছে। এই বেআইনি কাজের জন্য নয়ডা কর্তৃপক্ষ এবং সুপারটেকের মধ্যে আঁতাত তৈরি হয় বলেও রায়ে মন্তব্য করেন আদালত।

পরে ভবন দুটির ফ্ল্যাট মালিকদের অনেকে আদালতের দ্বারস্থ হন। প্রথমে ঠিক করা হয়েছিল, ২০২২ সালের মে মাসে ভবন দুটি ভেঙে ফেলা হবে। পরে সুপ্রিম কোর্ট ২৮ আগস্ট পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দেন। কিন্তু টেকনিক্যাল জটিলতা এবং আবহাওয়ার প্রতিকূলতার কথা মাথায় রেখে ৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়সীমা বৃদ্ধি করা হয়েছিল।#

Add Comments